দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

প্রথম শ্রেণি থেকেই পাঠ্যক্রমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও স্টেম—বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত—শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ। বৃহস্পতিবার গ্রামীণফোনের ‘এআই অ্যান্ড আই ডে’ উপলক্ষে জিপিহাউসে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ওয়ানএআই সেবার উদ্বোধন ঘোষণা করার সময় তিনি এ মন্তব্য করেন।
উপদেষ্টা বলেন, ‘জাপান বা দক্ষিণ কোরিয়াতে দ্বিতীয় শ্রেণি থেকেই শিশুরা রোবোটিক্স ও এআই শিখতে শুরু করে। আমাদের দেশের শিশুরা কেন তা পারবে না? আমরা যদি একদম শৈশব থেকেই এআই শিক্ষাকে সহজলভ্য করতে পারি, তবে আমাদের এই নতুন প্রজন্মই ভবিষ্যৎ বদলে দেবে।’
প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং হার্ডওয়্যার-সফটওয়্যার উৎপাদন এশিয়াতেই থাকবে বলে আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানগুলো এখন ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া এবং বিশেষভাবে বাংলাদেশের দিকে নজর দিচ্ছে। এটি বাংলাদেশের জন্য বড় একটি সুযোগ। সঠিক প্রযুক্তি, এআই-চালিত উদ্ভাবন ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের মাধ্যমে শিক্ষার্থী ও পরবর্তী প্রজন্মকে প্রস্তুত করা গেলে বাংলাদেশ অনেক দূর এগোতে পারে।
রেহান আসিফ বলেন, সরকার এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখে নীতিমালা তৈরি করতে পারে, যাতে ইন্টারনেটের ব্যান্ডউইথ, অবকাঠামো বা বিদ্যুৎ সরবরাহে কোনো ঘাটতি না থাকে। এসব নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশ বিশ্বের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি শিল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হতে পারে।
তিনি বলেন, ‘আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতির বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে এবং দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পরবর্তী ধাপ বাস্তবায়নে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ২০৩৪ সালের মধ্যে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলার যে লক্ষ্য আমাদের রয়েছে, তা অর্জনে এআইয়ের ভূমিকা এড়িয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’
রেহান আসিফ আরও বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ইতোমধ্যেই বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশের অর্থনীতি, শিল্প খাত ও সমাজব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। তাই এআইয়ের সম্ভাবনাকে গ্রহণ ও কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর সক্ষমতা বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ওয়ানএআইয়ের মতো উদ্যোগের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে এআইকে সহজলভ্য করে তুলতে গ্রামীণফোনের ভূমিকা আশাব্যঞ্জক। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের জন্য সাশ্রয়ী উপায়ে এআই সরঞ্জাম ব্যবহারের সুযোগ তাদের পড়াশোনা, গবেষণা ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানে গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইয়াসির আজমান বলেন, ‘এই উদ্যোগের মাধ্যমে আরও বড় পরিসরে গ্রামীণফোনের ‘এআই অ্যান্ড আই’ যাত্রার পরবর্তী ধাপের সূচনা হলো। এখন আমাদের জন্য এআই আর কোনো পরীক্ষামূলক বিষয় নয়।’
তিনি বলেন, স্বয়ংক্রিয় নেটওয়ার্ক ও গ্রাহকের চাহিদাভিত্তিক সেবা থেকে শুরু করে এআই-ভিত্তিক গ্রাহকসেবা পর্যন্ত কর্মী, সার্বিক কার্যক্রম ও গ্রাহক অভিজ্ঞতার সর্বস্তরে এআইয়ের প্রয়োগ প্রতিনিয়ত আরও বিস্তৃত ও সুদৃঢ় হচ্ছে।
এমএম/